(এক প্লেটে শীত, রোদ, আর শৈশবের স্মৃতি)
by Vegetablesbd.com
শীতকাল মানেই যেন গ্রামের সকালটা একটু অন্যরকম। হালকা কুয়াশা, দূরের মাঠে শিশিরভেজা ঘাস, আর উঠোনের এক কোণে বসে মা সবজি বেছে নিচ্ছেন। শিমের দানা ফাটিয়ে দেখাচ্ছেন আমাকে—“দেখ, কী টাটকা! এখনো শিশিরে ভেজা।” পাশে একটা বাঁশের ঝুড়িতে রাখা ফুলকপির ফুল, টমেটোর টুকটুকে লাল, গাজরের কমলা, আর আলুর ধুলো-মাটিতে লেপ্টে থাকা গন্ধ—সব মিলিয়ে পুরো উঠোনে যেন শীতের রঙিন বাজার বসেছে।
আমি ছোট্ট একটা মাটির হাঁড়ি হাতে দাঁড়িয়ে থাকি, মা বলছেন, “আজ করবো পাঁচ মিসালি সবজি-মাছ। এই শীতের সবজি একসাথে দিলে এমন মজা হয়, যেন মুখে শীতের রোদ গলে যায়।”
চুলায় ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে পাড়ার বাতাসেই ভেসে আসে সেই ঘ্রাণ—পেঁয়াজ আর রসুন ভাজার টুকটুক শব্দে যেন সকালটা আরও আপন হয়ে ওঠে। হাঁড়িতে পড়ে শিমের সবুজ, গাজরের কমলা, টমেটোর লাল, ফুলকপির সাদা আর আলুর সোনালি রঙ। ঘ্রাণে তখন মিশে যায় ভেজা মাটির গন্ধ, নতুন শীতের রোদ, আর মায়ের মমতা।
মাছটা যখন দেয় মা, তখন রান্নাঘর যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। হাঁড়ির ঢাকনা বন্ধ হওয়ার আগেই কেউ না কেউ বলে ওঠে, “আলুটা যেন বেশি দিস মা, ওটাই তো আসল মজা।”
কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁড়ির ভেতর থেকে মৃদু ফুটফুটে বুদবুদ ওঠে, যেন বলছে—আর একটু অপেক্ষা করো, স্বাদটা এখনো পুরো হয়েছে না।
দুপুরে রোদে একটা গামছা পেতে সবাই বসে। কাক ডাকছে, পেছনে পিঠা বানানোর শব্দ, আর মাঝখানে ধোঁয়া ওঠা ভাতের থালা। মা হাত বাড়িয়ে রাখলেন সেই পাঁচ মিসালি সবজি-মাছ। ভাতের উপর ঝোল ঢালতেই রোদের আলো তাতে ঝিলমিল করে উঠল। প্রথম লোকমায়েই মনে হলো—এ শুধু খাবার নয়, একেকটা লোকমায় শৈশব ফিরে আসে।
এই রেসিপির ভেতরে শুধু স্বাদ নেই, আছে সময়ের গন্ধ, আছে উঠোনে বসে খাওয়ার হাসি, আছে রোদে শুকানো কুমড়োর পাশে মায়ের গল্প।
শীতের দিনে এমন পাঁচ মিসালি সবজি-মাছ শুধু পেট ভরায় না—মনও ভরিয়ে দেয়।
Vegetablesbd.com বিশ্বাস করে,
বাংলার প্রতিটা সবজির ভেতর আছে একটা গল্প,
যা আমাদের ফিরিয়ে নেয় নিজের গ্রামে,
নিজের রোদে, নিজের শৈশবে।